ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪

প্রিয় পাঠক, আপনি কি নতুন ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪ সম্পর্কে খোঁজাখুজি করছেন অথবা জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনার জন্য এই পোস্টটি তৈরি করা হয়েছে। এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪ সালের সমস্ত তথ্য।
ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেন, এটি একটি স্বপ্নের মত। বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের মধ্যে কক্সবাজার অন্যতম। নতুন এই ট্রেনটি আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে চলাচল শুরু করবে। তাই আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জন্য ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪ নিয়ে যাবতীয় তথ্য আলোচনা করব।

পেজ সূচিপত্রঃ ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪

ভূমিকা

ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের চলাচলের সাথে সাথে, কক্সবাজারে ভ্রমণ হবে সহজ, নিরাপদ, এবং সাশ্রয়ী। বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের একটি নাম কক্সবাজার (Cox’s Bazar)। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে তার সুনাম। কক্সবাজারের সাথে সংযুক্ত হয়ে আছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান, যা সমুদ্র সৈকতের বাইরেও অত্যন্ত রুচিকর।
এই সকল কারণে, কক্সবাজারকে 'পর্যটন নগরী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এই পর্যটন নগরীতে ট্রেন নিয়ে আজকে আপনাদের সামনে ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪ আলোচনা করব।

ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস সম্পর্কে সংক্ষেপে

ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস" হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্বারা চালিত একটি আন্তঃনগর ট্রেন, যা ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাত্রা করবে। এই ট্রেনটি ২০২৪ সালে ১০ জানুয়ারি চালু হবে এবং এটি ভ্রমণকারীদের জন্য সহজ, সুরক্ষিত এবং সুবিধাজনক যাত্রা নিশ্চিত করবে। ১ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেনটি কক্সবাজারে চালু হয়।
৬ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে, এরপর, বাংলাদেশ রেলওয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে কক্সবাজারের আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেনের উদ্বোধন ঘোষণা করে। তবে ঘোষিত তারিখে ট্রেনটি চালু হয়নি। বরং, ওই দিনে, কর্তৃপক্ষ নাম চূড়ান্ত করে অনুমোদন দেয়। ২ জানুয়ারি ২০২৪ সালে ঘোষণা করা হয়েছে যে ট্রেনটি ১০ জানুয়ারি ২০২৪ সালে চালু হবে। আর এই ট্রেনটি হচ্ছে পর্যটক এক্সপ্রেস। এই ট্রেনের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

আধুনিক সজ্জাঃ এই ট্রেনটি সজ্জিত এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, যাত্রীদের জন্য একটি সুরক্ষিত এবং সুবিধাজনক যাত্রা নিশ্চিত করে।

বিশেষ আসনঃ ট্রেনটিতে বিশেষ আসন সুবিধা রয়েছে, যাত্রীরা আরও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

ভ্রমণ দূরত্বঃ ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভ্রমণ করে, যাত্রীদের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়।

কার্যকর সময়সূচিঃ এই ট্রেনের সময়সূচি কার্যকর এবং সুবিধাজনক, যা যাত্রীদের ভ্রমণের জন্য আরও কোম্পাক্ট এবং পরিস্থিতি অনুভব করতে দেয়।

খাদ্য সুবিধাঃ ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সুবিধা উপলব্ধ, যাত্রীরা স্বাদে আরামদায়ক খাবার উপভোগ করতে পারে।

সুরক্ষিত এবং সুস্থ ভ্রমণঃ পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের জন্য সুরক্ষিত এবং সুস্থ ভ্রমণের জন্য ভাল সুযোগ ও সুবিধা রয়েছে ।

প্রশাসনিক সুবিধাঃ এই ট্রেনে জনপ্রিয় পর্যটন স্থলগুলির দিকে তাৎপর্য রেখে প্রশাসনিক সুবিধা ও যত্ন নেয়া হয়েছে।

ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া

ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্বারা চালিত হবে এবং এটি ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারকে সংযোজন করবে। এই ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন, যাত্রা করবে ট্রেন নম্বর ৮১৫/৮১৬ (রবিবার ছাঁটির দিন ব্যতীত)। ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া নিচে দেওয়া হল।

সময়সূচীঃ পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫/৮১৬)
ট্রেনটি সকাল ৬ঃ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে এবং বিকেল ৩ টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে। আবার একই ট্রেন রাত ৮ঃ০০ টায় কক্সবাজার থেকে রেল স্টেশনে ছেড়ে যাবে এবং ভোর ৪ঃ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছাবে।

ভাড়াঃ পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫/৮১৬)
বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দূরবর্তী রেল পরিবহনের জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজারের রুটে ৫৫১ কিলোমিটার ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিম্নে দেয়া হলঃ
  • শোভনঃ ৪২০ টাকা
  • শোভন চেয়ারঃ ৫০৫ টাকা
  • প্রথম সিটঃ ৬৭০ টাকা
  • প্রথম ব্যর্থঃ ১,০০০ টাকা
  • স্নিগ্ধাঃ ৯৬১ টাকা
  • এসি সিটঃ ১,১৫০ টাকা
  • এসি ব্যর্থঃ ১,৭২৫ টাকা
সুবিধাসমূহঃ
  • বিকাল ৩ঃ১০ মিনিটে কক্সবাজার রেল স্টেশনে পৌঁছাবে।
  • চলাচল সপ্তাহে ৬ দিন (রবিবার বন্ধ)।
  • নতুন কোরিয়ান কোচ দ্বারা চলাচল করতে এই ট্রেনটি প্রস্তুত থাকছে।
  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন এবং আগামী ১০ই জানুয়ারি থেকে চলবে।
  • এই তথ্য পরিবর্তনশীল হতে পারে, তাই সর্বোপরি সঠিক এবং আধুনিক তথ্য পেতে বাংলাদেশ রেলওয়ে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অফিসে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না।

ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরত স্টেশন সমূহ

ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরত স্টেশন সমূহ নিম্নে দেওয়া হলো।
ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন (Dhaka Kamalapur Railway Station)
এই স্টেশন ট্রেনের উৎপত্তি স্থান এবং দোহাজারী রেলস্টেশনের মধ্যে একটি বিরত স্টেশন।

ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন (Dhaka Airport Railway Station)
এই স্টেশনটি বিমানবন্দরের অবস্থানের কারণে ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন (Chittagong Railway Station) 
চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে একটি বিরত স্টেশন।

কক্সবাজার রেলস্টেশন (Cox's Bazar Railway Station) 
এই স্টেশনটি কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার শহরে অবস্থিত।

এই স্টেশনগুলি হতে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন ভ্রমণ করতে থাকে।

ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ছুটির দিন সমূহ

বাংলাদেশ রেলওয়ের পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন (৮১৫/৮১৬ নম্বর) ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে এবং কক্সবাজার থেকে ঢাকা শহরে ফিরে যাওয়ার ছুটির দিন হল রবিবার। অর্থাৎ, প্রতি সপ্তাহে রবিবার ট্রেনটি বন্ধ থাকে।

আজকের আর্টিকেলে সচরাচর প্রশ্ন

প্রশ্নঃ ট্রেনের ভাড়া কত?
উত্তরঃ বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয় থেকে প্রদানকৃত তথ্য অনুযায়ী, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া বিভিন্ন শ্রেণিতে ভিন্ন ভিন্ন। উচ্চ শ্রেণিতে ভাড়া বেশি হতে পারে।
প্রশ্নঃ ট্রেনে কতগুলি শ্রেণি আছে?
উত্তরঃ এই ট্রেনটি বিভিন্ন শ্রেণি যোগাযোগের জন্য উপলব্ধ, যেমন: শোভন, শোভন চেয়ার, প্রথম সিট, প্রথম ব্যর্থ, স্নিগ্ধা, এসি সিট, এসি ব্যর্থ।
প্রশ্নঃ ভিসা/টিকিট কি দরকার ভ্রমণের জন্য?
উত্তরঃ ভ্রমণের জন্য টিকিট কিংবা ভিসা প্রয়োজন হতে পারে তা স্থানীয় রেল সরবরাহকারী বা সংস্থা থেকে যাচাই করুন।
প্রশ্নঃ ট্রেনটি রয়েছে ছুটির দিন কী?
উত্তরঃ ছুটির দিন হল রবিবার।
প্রশ্নঃ কোন স্টপে ট্রেন থামতে হয়?
উত্তরঃ দোহাজারী, চট্টগ্রাম, ঢাকা বিমানবন্দর, ঢাকা, এবং কক্সবাজার স্টেশনে ট্রেন থামতে হয়।
প্রশ্নঃ ট্রেনে যাওয়ার আগে কি ধরণের ড্রেস পরা উচিত?
উত্তরঃ কোনও সুন্দর ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পরা উচিত এবং ঠান্ডা ও গরম কাপড় নিতে উচিত।
প্রশ্নঃ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ কি রয়েছে?
উত্তরঃ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে, সহ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকায় আপনি সুন্দর পর্বত এবং সাগরের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
প্রশ্নঃ কক্সবাজারে পৌঁছার পর কি ধরণের পরিবহন সুবিধা রয়েছে?
উত্তরঃ কক্সবাজারে পৌঁছার পর, বাস, রিকশা, অটোরিকশা ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহন সুবিধার জন্য উপলব্ধ থাকতে পারে।

শেষ কথাঃ ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪

আজকের আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৪ সম্পর্কে জানালাম। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়ে সহায়তা করবে।

আপনি যদি আরও কিছু জানতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন, আমরা আপনার কমেন্টের উত্তর দিতে চেষ্টা করব । ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url