তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত

তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন আমরা অনেকেই জানিনা। ত্বক ফর্সা বা উজ্জ্বল রাখার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের স্কিন কেয়ার এর কসমেটিক্স ব্যবহার করি কিন্তু এই কসমেটিক বা ঘরোয়া ভাবে তৈরি যেকোনো ফেসপ্যাক ব্যবহারের জন্য কিছু রুটিন রয়েছে। যা আমরা অধিকাংশই জানিনা। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাকে জানাতে চলেছি তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন।
তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত
এই আর্টিকেলে তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন এবং স্ক্রিনের  কেয়ার, ফর্সা এবং কোন ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে আপনার ত্বক ভালো থাকবে সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন

ত্বক তৈলাক্ত হওয়ার কারণ কি

তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন জানার পূর্বে এটি জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে তক্তলক্ত হওয়ার কারণ কি চলুন জেনে নি। সাধারণত তক্তা লাগতো হয়ে থাকে দুটি কারণে একটি হচ্ছে জিনগত কারণ এবং একটি হচ্ছে হরমোন জনিত কারণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি আবহাওয়া গত কারণ এবং ডায়েটের নিয়ন্ত্রণের কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় আমাদের শরীরের তেল উৎপাদনকারী হরমোন বেশি তৈরি হয় তাহলে তৈলাক্ত ত্বকের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুনঃ পা ফাটা দূর করা
বয়সন্ধিকালে টেস্টেইস্টেরন হরমোন অনেক বেশি একটিভ থাকে যে কারণে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব অনেক বেড়ে যায়। বাজারের বিভিন্ন ধরনের আমরা ফেসওয়াস ব্যবহার করে থাকি কিন্তু ফেসওয়াশ এর ওভার ডোজ এর কারনেও ত্বকের তলাক্ত ভাব সৃষ্টি হতে পারে।

তাই নিয়ম মাফিক ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে এছাড়া ভুলভাল প্রোডাক্ট ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে কেন না ভুলভাল প্রোডাক্ট ব্যবহার কারণে এবং অনেক সময় ভুলভাল খাবারের কারণে ও তৈলাক্ত ভাব সৃষ্টি হয়।

ত্বক তৈলাক্ত বোঝার উপায়

ত্বক তলাক্ত হয়েছে কিনা এটা বোঝার সবথেকে সহজ নিয়ম হচ্ছে ঘুম সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপনার ত্বকে স্পর্শ করুন তাহলে বুঝতে পারবেন আপনার রক্তলক্ত হয়েছে কিনা। যদি আপনার হাত একটু তেলতেলে ভাব হয় অথবা একটু পিচ্ছিল ভাব আসে তাহলে বুঝবেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়েছে।

এছাড়াও ব্রাশ করার সময় মুখ ধস কিছুক্ষণ পরে যদি দেখেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত ভাব এসেছে তাহলে বুঝবেন আপনার ত্বক অয়েলি হয়েছে।

তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন

স্কিন কেয়ার রুটিনের জন্য খুব জরুরী যে কোন প্রোডাক্ট এর পর কোন প্রোডাক্টটি অথবা কিভাবে আপনি আপনার স্কিন কেয়ার করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেই কিভাবে আপনি কয়েকটি ধাপে তোলাক তথ্য থেকে মুক্তি পেতে পারেন। চলুন জেনে নি।

ডাবল ক্লেনজিংঃ দিনের শেষে এই দিনকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। পরিষ্কারের জন্য মাইসেলার সেলার ওয়াটার ব্যবহার বেছে নিতে পারেন। এই ওয়াটারের মূলত থাকেন মাইল্ড সারফেকট্যান্ট যা আপনার স্কিনের বিভিন্ন ধরনের মেকআপ এবং ময়লা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে।

এরপর বাজারে যেকোনো ফেস ক্লিনার অথবা স্কিন ক্লিয়ার যা স্পেশালি অয়েল ক্লিন এর জন্য ব্যবহার করা হয় এমন প্রোডাক্ট দিয়ে আপনি আপনার ত্বককে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

টোনিংঃ সাধারণ স্কিন কেয়ার এর মধ্যে আর একটি ধাপ হচ্ছে টনি যা আমরা অনেকেই স্ক্রিপ করে চলে তবে বিভিন্ন স্কিনের টোনার বিভিন্ন রকম হয় তবে এই স্কিনের জন্য আপনাকে চুজ করতে হবে মাটিফাইং টোনার। অনেকেই এই টনের গুণাগুণ জানেন না তবে এটি ত্বকের পিএইচ লেভেল কে ব্যালেন্স করে।

সিরামঃ আপনার বয়স যদি বিষের উপরে হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে একটি খুব ভালো স্কিন রুটিন ফলো করতে হবে সেজন্য আপনাকে আপনার স্কিনে সিরাম ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি ভ ইন্ট্রিগ্রেড গুলো আসলে অনেক হেল্পফুল তাহলে চলুন জেনে নেই সেগুলো কি কি?
  • Hyaluronic acid স্ক্রিনের হাইড্রেশন ধরে রাখা যায়।
  • Salicylic acid মৃত স্কিনগুলোকে দূর করে এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ সার্কেল দূর করা।
  • নিয়া সিনামাইড এখানে কমিয়ে আনে।
  • শ্রীরাম ভিটামিন সি ব্যাটিংয়ের কাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের স্পট কমিয়ে আনে।
নাইট ক্রিমঃ এর পরবর্তী স্টেপ হচ্ছে নাইট ক্রিম। আপনাকে এমন নাইট ক্রিম বেছে নিতে হবে যা ত্বকের খুব ভালোভাবে নারেজমেন্ট মশ্চারাইজেশন প্রোভাইড করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ওয়াল ফ্রী এবং লাইট ওয়েট ফর্মুলার নাইট ক্রিম সিলেক্ট করতে হবে। চলো নাইট ক্রিমের ব্যবহার জেনে নিন।
প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন স্লিপিং মার্কস ব্যবহার করুন।
আইক্রিমঃ এজিং সাইন্স অনেক বেশি ভিজিবল হয় যেটা সকলে ধারনা করে। চোখের চারপাশে কালো দাগ আর দাগের জন্য প্রয়োজন মশ্চারাইজেশন তাই এটার জন্য প্রপার পদক্ষেপ হচ্ছে আইক্রিম চোখের নিচে এপ্লাই করা সেটা আপনার টক তৈলাক্ত হলেও এপ্লাই করতে পারবেন শুকনো হলো এপ্লাই করতে পারবেন। ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে আইক্রিম দিয়ে আপনি আপনার কালো দাগের অপর ভালোভাবে মেসেজ করুন তাহলে এ কালো দাগের নিচে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিনটি ব্যবহার করলে তোলার ত্বক থেকে মুক্তি পাবেন কিন্তু তবে অবশ্যই কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। যেমন ওভারাস করা যাবে না হেলদি লাইফলিড করা যাবে না এবং বেশি মেকআপ করা যাবে না।

তৈলাক্ত ত্বকের ফেসপ্যাক

প্রত্যেক মানুষে কম বেশি ত্বক নিয়ে চিন্তিত থাকেন। তবে যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা বেশি চিন্তায় থাকেন কেননা এই তৈলাক্ত ত্বক থেকে সৃষ্টি হতে পারে ব্রণ। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিছু ফেসপ্যাক রয়েছে যা ব্যবহার করলে আপনার তো লাগতো ভাব খুব তাড়াতাড়ি দূর হয় তাহলে চলুন জেনে নেই সেই ফেসপ্যাক গুলো কি কি এবং ব্যবহার কিভাবে করবেন।

মধু ও পেঁপের ফেস প্যাকঃ কোয়ালি ত্বকের জন্য মধু ও পেঁপে অত্যন্ত কার্যকরী। একটি পেঁপে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে তাতে মধু মিশিয়ে এরপর দিনে অন্তত একবার ব্যবহার করুন।

টমেটো ফেস প্যাকঃ ত্বকের যত্নের টমেটোর ব্যবহার যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের টানটান ভাব দূর করে। কয়েক ফোটা মধুর সাথে টমেটো প্লেন করে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

বেসন ও হলুদঃ বেসন ও হলুদ একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয় এছাড়াও বেসন ও হলুদ এর সঙ্গে টক দই মিশিয়ে মাখলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

মুলতানি মাটিঃ এটি একটি বিশেষ ধরনের মাটি যা তৈলাক্ত ভাব দূর করতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দুই থেকে তিন চামচ মুলতানের মাটির সঙ্গে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন।
শসার প্যাকঃ শসা তৈরি প্যাক ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বকের ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। শসার প্যাক তৈরির জন্য প্রথমে আপনাকে দুই থেকে তিন চার চামচ শসা ব্লেন্ড করে এক থেকে দেড় চা চামচ গোলাপ জল এবং অল্প পরিমাণ লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন।

১০ থেকে ১৫ মিনিট আপনার মুখে লাগিয়ে রাখুন। এ প্যাকটি আপনি অন্তত দিনে একবার ব্যবহার করুন এতে ত্বক তেলমুক্ত এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

অ্যালোভেরাঃ অ্যালোভেরা একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা যেকোনো ধরনের ত্বকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। খুব সাবধানে এলোভেরার ভেতরের জেলটি বের করে 10 থেকে 15 মিনিট তোলাক্ত তবে লাগিয়ে রাখুন।

ডিম, শসা ও পুদিনার প্যাকঃ উপরের প্যাকটি ছাড়াও আপনি আরেকটি প্যাক তৈরি করতে পারেন যার ডিম শসা ও পুদিনা ধারা তৈরি এটি ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে এবং তত্ত্বের ভিতর থেকে এনেদে উজ্জ্বলতা। ডিমের সাদা অংশ সঙ্গে শ্মশান রস এবং ব্লেন্ড করা পুদিনা পাতার পেস্ট একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে পাঁচ থেকে দশ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।

কমলার ফেসপ্যাকঃ মুখের দাগ সার্কেল ও অতিরিক্ত তেল দূর করতে কমলার ফেসপ্যাক এর কোন বিকল্প নেই। দুই টেবিল চা চামচ পরিমাণ কমলা লেবুর গুড়ো এর সঙ্গে এক টেবিল চা চামচ হলুদ বাটা এবং অল্প পরিমাণ দুধ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এরপর 20 মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে এটি সপ্তাহে একবার দুইবারের বেশি করা যাবে না।

পাকা কলার ফেসপ্যাকঃ পাকা কলা তোলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী কেননা এটি ত্বকের ভিতর থেকে উজ্জ্বলতা এবং ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধি করে। এই প্যাকটি তৈরির জন্য পাকা কলার সাথে একটি দেশি লেবুর রস এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রেস তৈরি করুন এরপর সেটিকে 15 মিনিট ধরে মুখে লাগিয়ে রেখে গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এটিও সপ্তাহে আপনি দুইবার ব্যবহার করতে পারবেন।

লেবুর রস ও মধুর প্যাকঃ ব্যাকটেরিয়া দূর করে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করে। লেবু ও মধুর প্যাকটি তৈরি করতে আপনাকে একটি টেবিল চামচের একটি পাতি লেবুর রস নিতে হবে এবং এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে একটি দেশ তৈরি করুন এবং ত্বকে এটি পনের মিনিট লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফেসওয়াস পাওয়া যায় যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক ভালো। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা তো তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো। চলুন তাহলে জেনে নেই কার্যকরী ফেসওয়াস সমূহ।
  • Neutrogena Oil Free Acne Wash
  • Neutrogena Clear & Soothe Mousse Cleanse
  • Cosrx Salicylic Acid Daily Gentle Cleanser
  • Tea Tree Skin Clearing Facial Wash

পাঠকের মন্তব্যঃ তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন

উপরে তৈলাক্ত ত্বকের স্কিন কেয়ার রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যদি আপনি এখন এই সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পুনরায় মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এই পোস্টটি পড়ে আপনার মূল্যবান মতামতটি কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানান। তৈলক তো তোদের স্কিন কেয়ার রুটিন আপনি আপনার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে শেয়ার করুন এবং আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url